Writer : Hariharananda Bharati
Edited By : Gyanendranath Mukhopadhyay
Compiled By : Gyanendranath Tantraratna
Translated By : Jaganmohan Tarkalankar
Publishers : Nababharat Publishers
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Hinduism
- Publication Year : 2009
- ISBN No : NA
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 946
- Weight : 1100 gms
- Height x Width x Depth : 9.5x6.5x02 Inch
If so, it will be notified
About the Book
“মহানির্বাণ তন্ত্র” (Mahanirvana Tantra) হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীরতর আধ্যাত্মিক গ্রন্থ, যা মূলত মুক্তি (মোক্ষ), সাধনা, আচার ও দর্শনের এক সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। এই গ্রন্থটি “Tantra of the Great Liberation” নামেও পরিচিত এবং এটি তন্ত্রসাহিত্যের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে, কারণ এতে একদিকে যেমন দার্শনিক চিন্তার গভীরতা রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি ব্যবহারিক সাধনা ও আচারবিধির সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই গ্রন্থটি মূলত ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর মধ্যকার সংলাপ আকারে রচিত, যেখানে শিব গুরু এবং পার্বতী শিষ্যা রূপে উপস্থিত। এই সংলাপধর্মী বিন্যাস তন্ত্রশাস্ত্রের একটি ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে জটিল আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। গ্রন্থটিতে মোট ১৪টি অধ্যায় (উল্লাস) এবং প্রায় ২৫০০-এরও বেশি শ্লোক রয়েছে, যা বিভিন্ন আচার, দর্শন, সামাজিক বিধান ও যোগসাধনার বিস্তৃত পরিসরকে অন্তর্ভুক্ত করে।
“মহানির্বাণ তন্ত্র”-এর মূল বিষয়বস্তু বহুমাত্রিক। এতে ব্রহ্মতত্ত্ব, শক্তিতত্ত্ব, কুণ্ডলিনী যোগ, মন্ত্র, যজ্ঞ, পূজা, ব্রত, তপস্যা প্রভৃতি বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশেষভাবে কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণ, চক্রতত্ত্ব এবং শরীরের সূক্ষ্ম শক্তিকেন্দ্রগুলোর বর্ণনা এই গ্রন্থের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। পাশাপাশি এতে মানবজীবনের চারটি আশ্রম, বর্ণব্যবস্থা, নৈতিকতা, ধর্মীয় আচরণ এবং সামাজিক কর্তব্য সম্পর্কেও বিশদ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা এটিকে শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক গ্রন্থ নয়, বরং একধরনের জীবনপথ নির্দেশিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই গ্রন্থে তন্ত্রের আচার ও সাধনাকে কেবল গূঢ় বা রহস্যময় কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি; বরং তা মানবজীবনের সার্বিক উন্নতি এবং চূড়ান্ত মুক্তির উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে যজ্ঞ, পূজা, ব্রত ও তপস্যার মাধ্যমে ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে শুদ্ধ করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করতে পারে, তা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, নৈতিক জীবনযাপন, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম এবং গুরু-শিষ্য সম্পর্কের গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
“মহানির্বাণ তন্ত্র”-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর মুক্তির দর্শন। এখানে বলা হয়েছে যে, মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা। এই মুক্তি অর্জনের জন্য তন্ত্রকে একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা কালীযুগের মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বলে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে, এই গ্রন্থটির নির্দিষ্ট রচনাকাল নির্ধারণ করা কঠিন হলেও এটি তন্ত্রসাহিত্যের বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রচিত বলে মনে করা হয়। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ বিচারপতি ও পণ্ডিত স্যার জন উডরফ (Arthur Avalon) এই গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন, যার ফলে এটি পাশ্চাত্য জগতে পরিচিতি লাভ করে এবং তন্ত্রদর্শনের উপর গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে।
সার্বিকভাবে, “মহানির্বাণ তন্ত্র” একটি বিস্তৃত ও গভীর আধ্যাত্মিক গ্রন্থ, যা তন্ত্রের দর্শন, আচার এবং সাধনাকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করে। এটি শুধু ধর্মীয় বা আচারসংক্রান্ত নির্দেশনাই দেয় না, বরং মানুষের আত্মিক বিকাশ, নৈতিক জীবনযাপন এবং চূড়ান্ত মুক্তির পথও নির্দেশ করে। এজন্যই এই গ্রন্থটি তন্ত্রসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আধ্যাত্মিক অন্বেষীদের কাছে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
